পয়লা বৈশাখ… নতুন বছরের প্রথম দিন, বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন, সংস্কৃতির দিন, আবেগের দিন।
আর সেই পবিত্র লগ্নেই—নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রাহ্য করে রাস্তায় নামল বাঙালি।
কলকাতার ব্যস্ততম রাসবিহারী মোড় থেকে গড়িয়াহাট পর্যন্ত—ঢাকের তালে, রণপা’র ছন্দে, আবেগ আর প্রতিবাদের মিশেলে এগিয়ে চলল বাংলা পক্ষের বর্ণাঢ্য মিছিল।
নির্বাচন কমিশনের অনুমতি না মেলায় থেমে থাকেনি এই পদযাত্রা। বারবার আবেদন করেও অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে, প্রশ্ন উঠেছে—
পয়লা বৈশাখ উদযাপনে এত আপত্তি কেন?
বাঙালির সংস্কৃতি নিয়েই বা এত ভয় কিসের?
মিছিলে ভেসে উঠেছে একের পর এক বার্তা—
“ভাষা কাড়তে এলে প্রতিরোধ হবে, মাছ কাড়তে এলে যুদ্ধ হবে!”
শুধু প্রতিবাদ নয়, ছিল ঐতিহ্যের আহ্বানও—
হালখাতার দিনে বাঙালির ব্যবসা, বাঙালির বাজার, বাঙালির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ডাকও উঠে আসে এই মঞ্চ থেকে।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্ব।
সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন—
“বাঙালি কখনও নিজের সংস্কৃতির উপর নিষেধাজ্ঞা মানে না। আজ বাঙালি নিজের পরিচয়ে গর্ব করে রাস্তায় নেমেছে, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শপথ নিয়েছে।”
অন্যদিকে, কৌশিক মাইতির বক্তব্যে উঠে আসে আরও তীব্র সুর—
“বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস আজ আক্রান্ত। কিন্তু বাঙালি চুপ করে থাকবে না—নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় রাস্তায় নামবেই।”
পয়লা বৈশাখের এই মিছিল যেন শুধু একটি শোভাযাত্রা নয়—
এ যেন বাঙালির আত্মপরিচয়, অধিকার আর ঐক্যের এক দৃঢ় ঘোষণা।
নতুন বছরের প্রথম দিনেই বার্তা স্পষ্ট—
“বাঙালি মাথা নোয়ায় না… বাঙালি লড়তে জানে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *