SIR সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়, যেখানে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) মামলাটি দায়ের করে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষকে লাগাতার হয়রানি করা হচ্ছিল এবং নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছিল।

তিনি জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর প্রায় ২০ দিন আগে তিনি দশজন প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে “লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি”-র তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়, যাতে প্রকৃত সত্য সামনে আসে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেই দাবি মানেনি। এমনকি শুনানি কেন্দ্রে AITC-র BLA-2 উপস্থিত থাকার আবেদনও খারিজ করা হয়।

অভিষেক বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলাম, নির্দেশিকা প্রকাশ না হলে তৃণমূল শুনানি কেন্দ্র ছাড়বে না। আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”
উত্তর ২৪ পরগনার মাটিকে নিজের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই মাটিতে পা রাখলেই জয় নিশ্চিত।” তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের আবেদন মেনে “লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি”-র তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে এবং শুনানি কেন্দ্রে BLA-2-কে উপস্থিত থাকার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “বিজেপির SIR খেলা শেষ। প্রায় এক কোটি ভোটারের নাম কেটে দেওয়ার যে চেষ্টা হয়েছিল, তা রুখে দেওয়া হয়েছে। এই জয় বাংলার মানুষের জয়। আমাদের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়েছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তার যোগ্য জবাব দিয়েছে।”
বক্তব্যের শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ আদালতে মোদি ও বিজেপির পরাজয় হয়েছে, আগামী দিনে তারা ভোটের ময়দানেও পরাজিত হবে। এটা উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ বা গুজরাট নয়। এই বাংলা স্বাধীনতা আন্দোলন ও নবজাগরণের পথ দেখিয়েছে। আমরা বাইরের কারও কাছে মাথা নত করি না। বাংলার মানুষ দাসত্বে বাঁচতে জানে না, নিজেদের মেরুদণ্ড বিক্রি করতেও জানে না।”
