
প্রকৃত বিপদের উপস্থিত ছাড়াই বস্তু বা পরিস্থিতির প্রতি অত্যাধিক ভয়কে ফবিয়া বলে। যে পরিস্থিতি বা বস্তুর থেকে ভয়ের সৃষ্টি হয় তার সম্পর্কে চিন্তা করলে উদ্বেগের অনুভূতি হতে পারে। গুরুতর পরিস্থিতির ক্ষেত্রে উদ্বেগের অনুভূতি স্বাভাবিক একটি ঘটনা, কিন্তু কোন বাস্তব কারণ বা বিপদ ছাড়াই উদ্বিগ্ন বোধ করা স্বাভাবিক নয়। সাধারণত যে বস্তুগুলির প্রতি ফোবিয়া দেখতে পাওয়া যায় সেগুলি হল কীটপতঙ্গ, উচ্চতা, ইনজেকশন, পশু এবং মানুষের ভিড়।
একটি ভারতীয় গবেষণা পত্র অনুযায়ী, ফোবিয়া হল একপ্রকার অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার ভারতীয় জনসংখ্যার ৪.২% এর উপরে প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়।
বিশ্ব বিখ্যাত কিছু ব্যক্তিত্বকে আমরা উদাহরণ হিসেবে দেখব তারাও কিন্তু ফোবিয়ার শিকার। মহান নেপোলিয়ন বোনাপার্ট,হিটলার, মুসোলিনি এবং জুলিয়াস সিজার সহ আরও অনেক পুরুষ যারা বিশ্ব শাসন করার চেষ্টা করেছিলেন তারা বিড়ালকে ভয় করতেন। নিকোলা টেসলা জীবাণু এবং কানের দুল যাতে মুক্তো থাকে খুব ভয় পান।
বিভিন্ন ভারতীয় সেলিব্রিটিরা অদ্ভুত সব ফোবিয়া বা ভয়ের সম্মুখীন হন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে।
আলিয়া ভাট – অন্ধকারকে ভয় পান।
রণবীর সিং – উচ্চতা বা উঁচু জায়গা থেকে ভয়।
দীপিকা পাড়ুকোন , অনুষ্কা শর্মা – আরশোলা বা পোকা দেখলে ভয় পান I
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া -ঘোড়াকে ভয় পান।
অমিতাভ বচ্চন – জল থেকে ভয়
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর রাজনীতিতে হাতে খড়ি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। মুখ্যমন্ত্রী পরিবারের সদস্য হলেও তিনি কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা বাংলা তথা ভারতীয় রাজনীতিতে বর্তমান দিনে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর জেদি মনোভাব ও রণোকৌশলে পরিপূর্ণ আজ তাকে বিরোধী শক্তির কাছে একটি ত্রাসে পরিণত হয়েছে। তার অদম ইচ্ছা শক্তির প্রকাশ আমরা দেখতে পাই তৃণমূল কংগ্রেসের নব জোয়ার কর্মসূচির সময়, সেই কুচবিহার থেকে কাকদ্বীপ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও যাত্রা সম্পন্ন করেই শান্ত হন। ২০১১ সালে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যোগদান করেন। তারপর সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের যুবর রাজ্য সভাপতি দায়িত্ব পান এবং বর্তমানে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকদের দায়িত্ব রয়েছেন। 2014 সালের তিনি প্রথমবারের মতো সাউথ ২৪ পরগনার ডায়মন হারবার থেকে আসন থেকে লোকসভার সংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে আসার পর তিনি মানবাধিকার রক্ষা, সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা, জনগণের মধ্যে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য একনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ধীরে ধীরে বাংলার রাজনীতিতে জন গর্জনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ২০১১ থেকে ২৪ রাজনীতিতে যুবনেতা থেকে নেতা হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মস্তিষ্ক হয়ে উঠেছেন, ধরনায় বসেছেন সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছেন। সালটা ২০১৯ বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির হঠাৎ উত্থান তৃণমূলকে খানিকটা হলেও চিন্তায় ফেলেছিল। তারপর থেকেই উঠে পড়ে লাগে তৃণমূল। তার ফল মেলে রাজ্য বিধানসভা পৌরসভা পঞ্চায়েত নির্বাচনে। তিনটি নির্বাচনে ব্যাপক জয় পেয়েছিল তৃণমূল। তৃণমূলের সেই সফল অধ্যায়ের অন্যতম রচয়িতা বলা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেলায় জেলায় ঘুরে প্রচার করেছিল, তার পরিশ্রমের ফল পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

“মানুষ দুটি জিনিস দ্বারা পরিচালিত হয়: ভয় এবং ভালোবাসা”—এই বিখ্যাত উক্তিটির মূল ভাবটি ইতালীয় দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “দ্য প্রিন্স” (The Prince)-এ উল্লেখ করেছেন। শুরু থেকেই বিজেপির নজর ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর উপর। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হোক বা রাজ্য নেতৃত্ব হোক নির্বাচনী প্রচারে এসেছেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করেননি এরকম ঘটনা বাংলাতে এখন পর্যন্ত হয়নি। বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় অতি সম্প্রতি ২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনে অমিত শাহ বাংলায় আসেন এবং এক রাজনৈতিক সভা থেকে আসল কথা বলে ফেলেন যে বাংলায় আগামী দিনে দিদির নই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর শাসন কায়ম হবে, একথা বাংলার রাজনীতিতে অন্য মাত্রায় এনে দেয় এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র বাংলার রাজনীতিতে নয় দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দা হিন্দু সাক্ষাৎকারে বলেন যে, বিজেপি একুশটি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে কিন্তু তাদের সব থেকে বেশি চিন্তার বিষয় হচ্ছে বাংলা কে নিয়ে বাংলায় ক্ষমতা দখল করতে না পারা এই না পারার পিছনে রয়েছে অভিষেক ব্যানার্জি। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ভালো করে জানে যে তৃণমূল কংগ্রেসকে অভিষেক ব্যানার্জি যেভাবে সাংগঠনিক রুপে সাজিয়ে নিয়েছেন, তাদের পক্ষে বাংলা দখল করা দুঃসাধ্য ব্যাপার।

বিজেপি তাদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বারবার সিবিআই ও ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে জননেতা শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকানোর চেষ্টা করেছে। আমরা দেখতে পাই ইন্ডিয়া জোটের মিটিং এর ঠিক আগের সময়ে তাকে আটকানোর একটা চেষ্টা চালানো হয়। এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই পরিচয় দেয় না, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপরও আঘাত হানে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন এভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে কাজে লাগিয়ে তারা কখনোই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করতে পারবে না। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, “বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার সংস্থাগুলোর অপব্যবহার করছে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো বিরোধী দলকে হয়রানি করা। অভিষেক ব্যানার্জীকে আজ অযৌক্তিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। আজ তাঁর সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবুও, তিনি বাঘের মতো জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন। জনগণ বিজেপিকে তাদের এই অপকর্মের উপযুক্ত জবাব দেবে।”
এই প্রসঙ্গে আবার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শান্তনু সেন বলেছিলেন, “এটা লজ্জাজনক যে বিজেপি এতটা নিচে নেমেছে যে তারা অভিষেক ব্যানার্জীর পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করার জন্যেও ইডি এবং সিবিআইকে লেলিয়ে দিয়েছে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, আমাদের শক্তি জনগণ, আমাদের ভরসা সাধারণ মানুষের ওপর। জনগণের সমর্থনই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায় এবং সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে, এই সমস্ত চেষ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও প্রভাবকে ভয় পায়। তাই তাকে দমিয়ে রাখার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে, কিন্তু সত্য ও মানুষের শক্তির কাছে এসব প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থই হবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সেটাই মনে করেন।

আগামী দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ একথা অনস্বীকার্য।
– রাজু কর্মকার
অতিথি অধ্যাপক, মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়
